রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
www.shobshomoy.com নিউজে আপনাকে স্বাগতম | সবসময় সবার আগে, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ সংবাদ। Welcome to www.shobshomoy.com News | Always First with Fast, Accurate & Unbiased News.
শিরোনাম :
সিলেটের জিডিএফ-ডিকেফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াসিফুরকে সংবর্ধনা প্রদান কানাইঘাট সমিতির উদ্যেগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের দপ্তর প্রধানদের সাথে এমপি’র মতবিনিময় সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী হয়েও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস কিনছে কাতার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলে অংশগ্রহণ, ৩২ জন গ্রেফতার তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শাহবাগ এলাকা থেকে অজ্ঞাত ২ মরদেহ উদ্ধার বিশ্বনাথে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ পেলো নাদিয়াসহ ২৫ জন কানাইঘাটে বিজিবি এ্যাসল্ট মামলায় গ্রেফতার-১ লালাবাজার ইউনিয়ন উন্নয়ন ট্রাস্ট ইউকের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত  কাতার আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সিলেটের দুই হাফেজের অনন্য সাফল্য জালালাবাদ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলের লক্ষে আলোচনা সভা কানাইঘাট দনা সীমান্তে যুবতী ধর্ষনে আরেকজন গ্রেফতার সিপিএল অভিষেকে মিরাজের তিন উইকেট, গায়ানার জয় র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি : শফিকুর রহমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি বিল পাস মহাখালীতে পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ বিমান নিয়ে ঝামেলায় নোরা! সরকারি ৬ চাকরিতে বাড়ছে না ভাইভার নম্বর আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নতুন ব্রাজিল দেম্বেলের দুই তোরেসের হ্যাট্রিকে পিএসজির গোলবন্যা ‘লজ্জা’য় নতুন নুসরাত ফারিয়া ‘মাননীয়’ বাদ, ডিজিটাল হাজিরায় দাফতরিক নিয়ম মানলেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ডিএমপির ২২০৬ মামলা বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্সের অভিযান, ৬ মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা জৈন্তাপুরে পাওনা ৩ হাজার টাকার জেরে বসতঘরের টিন খুলে নেওয়ার অভিযোগ সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন : সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার, সদস্য-সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ও ফসলি জমি রক্ষায় গোয়াইনঘাটে দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন
ঋণের বোঝায় প্রাণ যায় যায় ১২ চা বাগানের

ঋণের বোঝায় প্রাণ যায় যায় ১২ চা বাগানের

সবসময় ডেস্ক ::: চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)। টানা লোকসান, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণে অদূরদর্শিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চন্ডিছড়া, পারকুল, মাধবপুর, প্রেমনগর, বিজয়া, পাত্রখোলা, চাম্পারাই, মদনমোহনপুর ও লাক্কাতুরাসহ ১২টি চা বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিজান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এনটিসির আর্থিক দুরবস্থার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানে রয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এনটিসির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের বোঝা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ১৪৪ দশমিক ৯৭ টাকা, যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার গভীর সংকটেরই ইঙ্গিত দেয়।

বাগান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চায়ের বাজারমূল্য বাড়েনি। এছাড়া উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে পরিবহন ও গুদামজাতকরণে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সইতে হচ্ছে কোম্পানিকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান এখনও সীমিত। ফলে রপ্তানি সম্ভাবনা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতে চায়ের দাম কিছুটা ভালো থাকলেও পরে তা কমে যায়, যা উৎপাদকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করে।

চন্ডিছড়া চা বাগানে ন্যাশনাল টি কোম্পানি উৎপাদিত চায়ের প্রায় ২৫ শতাংশ নিজস্ব ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছে। তবে শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্ক ও আধুনিক বিপণন কৌশলের অভাবে এ খাতে প্রত্যাশিত সাফল্য আসছে না। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিপণন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা গেলে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব। বিপণন বিভাগের লোকজন কাজে আন্তরিকতা নন।

এদিকে চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চা উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক বাগানে পাতা সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও চা শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এনটিসির ১২টি চা বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ও কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যক্রম সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিক পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। চা বাগানকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পুনঃতফসিল, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিপণন সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাজার বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে সরকার সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দিলে চা বাগানগুলো পুনরায় লাভজনক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, “সব বাগানে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চায়ের গুণগত মান উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে লোকসান কমিয়ে এনটিসির বাগানগুলোকে আবারও সোনালি সময়ে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হব”।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com